ফেরাউনের স্বপ্ন

1. দু বছর পর ফরৌণ একটা স্বপ্ন দেখলেন

2. স্বপ্নে নদী থেকে সাতটা গরু উঠে এসে ঘাস খেতে লাগল

3. এরপর নদী থেকে আরও সাতটা গরু উঠে এসে পাড়ের হৃষ্টপুষ্ট গরুগুলোর গা ঘেঁসে দাঁড়াল

4. সেই সাতটা অসুস্থ গরু সাতটা হৃষ্টপুষ্ট গরুগুলোকে খেয়ে ফেলল

5. ফরৌণ আবার শুতে গেলেন; আবার স্বপ্ন দেখলেন

6. তারপর দেখলেন আরও সাতটা শীষ উঠছে

7. এরপর ঐ রোগা রোগা সাতটা শীষ পুষ্ট সাতটা শীষকে খেয়ে ফেলল

8. পরের দিন সকালে রাতে দেখা স্বপ্নগুলোর জন্য ফরৌণের মন অস্থির হয়ে উঠল

9. তখন পানপাত্রবাহকের য়োষেফের কথা মনে পড়ল

10. আপনি আমার ও রুটিওয়ালার উপর রেগে গিয়েছিলেন এবং আমাদের বন্দী করেছিলেন

11. তারপর এক রাতে সে ও আমি স্বপ্ন দেখলাম

12. আমাদের সাথে কারাগারে এক ইব্রীয় যুবক ছিল

13. আর সে যা বলল বাস্তবে তাই-ই ঘটল

14. তাই ফরৌণ য়োষেফকে ডেকে পাঠালে দুজন রক্ষী দ্রুত তাকে কারাগার থেকে বের করে আনল

15. ফরৌণ য়োষেফকে বললেন, “আমি একটা স্বপ্ন দেখেছি কিন্তু কেউ তার ব্যাখ্যা করতে পারছে না

16. উত্তরে য়োষেফ বললেন, “আমি পারি না! কিন্তু হয়তো ফরৌণের জন্য ঈশ্বর তার অর্থ বলে দেবেন

17. তখন ফরৌণ য়োষেফকে বলতে লাগলেন, “আমার দেখা স্বপ্নে আমি নীল নদীর ধারে দাঁড়িয়েছিলাম

18. তখন নদী থেকে সাতটা গরু উঠে এসে ঘাস খেতে শুরু করল

19. তারপর আমি নদী থেকে আরও সাতটি গরু উঠে আসতে দেখলাম

20. তারপর রোগা অসুস্থ গরুগুলো প্রথমে আসা হৃষ্টপুষ্ট গরুগুলোকে খেয়ে ফেলল

21. কিন্তু তাও তাদের চেহারা রোগা আর অসুস্থই রইল

22. “আমার পরের স্বপ্নে আমি দেখলাম একটা গাছে সাতটা শীষ বেড়ে উঠছে

23. তারপর সেগুলোর পরে সাতটা আরও শীষ উঠে এলো

24. এরপর সেই অপুষ্ট শীষগুলো পুষ্ট শীষগুলোকে খেয়ে ফেলল

25. তখন য়োষেফ ফরৌণকে বললেন, “এই দুই স্বপ্নের বিষয়টা এক

26. উভয় স্বপ্নের প্রকৃত অর্থ এক

27. আর সাতটা রোগা গরু, সাতটা অপুষ্ট শীষ বোঝায় সাতটা দুর্ভিক্ষের বছর

28. শীঘ্র যা ঘটতে চলেছে ঈশ্বর তাই-ই আপনাকে দেখিয়েছেন

29. সাত বছর মিশরে প্রচুর শস্য উত্পন্ন হবে

30. কিন্তু তারপর আসবে দুর্ভিক্ষের সাতটা বছর

31. লোকরা ভুলে যাবে শস্যের প্রাচুর্য়্য় বলতে কি বোঝায

32. “ফরৌণ, আপনি একটি বিষয় নিয়ে দুটি স্বপ্ন দেখেছন

33. তাই ফরৌণ, আপনার উচিত্‌ একজন সুবুদ্ধি ও জ্ঞানবান লোক খুঁজে তাকে মিশর দেশের জন্য নিযুক্ত করা

34. তারপর আপনি অন্য লোকদের নিয়োগ করুন য়েন তারা খাদ্য সংগ্রহ করে

35. এইভাবে ঐ লোকরা ঐ সাতটি ভাল বছরে প্রচুর খাদ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজন না পড়া পর্য্ন্ত শহরে শহরে সংগ্রহ করে রাখবে

36. তারপর দুর্ভিক্ষের সাত বছরে মিশর দেশের জন্য খাদ্য থাকবে

জোসেফের রাইজ টু পাওয়ার

37. এই পরিকল্পনা ফরৌণের মনপুতঃ হল আর তাঁর আধিকারিকরাও মেনে নিল

38. তারপর ফরৌণ তাদের বললেন, “ঐ কাজ করার জন্যে মনে হয় না আমরা য়োষেফের থেকে আর ভাল কাউকে পাব! ঈশ্বরের আত্মা তার সঙ্গে রয়েছে আর সেই জন্যই সে জ্ঞানবান!”

39. তাই ফরৌণ য়োষেফকে বললেন, “ঈশ্বর তোমাকে এই সমস্ত যখন জানিয়েছেন তখন তোমার মত জ্ঞানী আর কে হতে পারে?

40. আমি তোমাকে আমার নিয়ন্ত্রণের জন্য নিযুক্ত করলাম, সমস্ত লোক তোমার আদেশ পালন করবে

41. ফরৌণ য়োষেফকে বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রাজ্যপাল করলেন

42. তারপর ফরৌণ তাঁর আংটি খুলে য়োষেফের হাতে পরিযে দিলেন

43. ফরৌণ য়োষেফকে দ্বিতীয় রথে চড়তে দিলেন

44. ফরৌণ তাকে বললেন, “আমি রাজা ফরৌণ, সুতরাং আমি যা চাই তাই করব কিন্তু মিশরের আর কেউ তোমার আজ্ঞা ছাড়া হাত অথবা পা তুলতে পারবে না

45. ফরৌণ য়োষেফের আর এক নাম সাফনত্‌-পানেহ রাখলেন

46. য়োষেফের 30 বছর বয়সে তিনি মিশর দেশের রাজার সেবা করতে শুরু করলেন

47. সাত বছর মিশরে খুব ভাল শস্য উত্পন্ন হল

48. আর ঐ সাত বছর ধরে য়োষেফ মিশরে খাবার সঞ্চয় করলেন

49. য়োষেফ সমুদ্রের বালির মত এত শস্য সংগ্রহ করলেন য়ে তা মাপা গেল না কারণ তা মাপা সম্ভব ছিল না

50. য়োষেফের স্ত্রী আসমত্‌ ছিলেন ওন শহরের যাজকের কন্যা

51. প্রথম পুত্রের নাম রাখা হল মনঃশি

52. য়োষেফ দ্বিতীয় পুত্রের নাম রাখলেন ইফ্রয়িম

53. সাত বছর লোকেরা খাদ্যের জন্য প্রচুর শস্য পেল

54. এবার দুর্ভিক্ষের সাতটা বছর শুরু হল ঠিক য়েমনটি য়োষেফ বলেছিলেন

55. দুর্ভিক্ষের সময় শুরু হলে লোকেরা খাদ্যের জন্য ফরৌণের কাছে এসে কান্নাকাটি করল

56. সব জায়গায় দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে য়োষেফ গুদাম থেকে লোকদের শস্য বিক্রি করতে শুরু করলেন

57. সর্বত্রই সেই দুর্ভিক্ষ প্রবল হল, ফলে মিশরের আশেপাশের দেশ থেকেও লোকরা শস্য কিনতে এলো

Bibles

Books

Chapters