জ্যাকব লাবন থেকে পালিয়েছে
1. একদিন যাকোব শুনল য়ে লাবনের পুত্ররা কথাবার্তা বলছেন
2. যাকোব লক্ষ্য করল য়ে লাবন অতীতের মত আর বন্ধুমনোভাবাপন্ন নয়
3. প্রভু যাকোবকে বললেন, “তোমার পূর্বপুরুষেরা য়ে দেশে বাস করতেন, তোমার সেই নিজের দেশে ফিরে যাও
4. তাই যাকোব রাহেল ও লেয়াকে সেই মাঠে দেখা করতে বলল
5. যাকোব রাহেল ও লেয়াকে বলল, “আমি দেখছি য়ে তোমাদের পিতা আমার ওপর রেগে গেছেন
6. তোমরা উভয়েই জান আমি তোমাদের পিতার জন্য আমার সাধ্যমত কঠোর পরিশ্রম করেছি
7. কিন্তু তোমাদের পিতা আমাকে ঠকিয়েছেন
8. “একবার লাবন বললেন, “বিন্দু চিহ্নিত সমস্ত ছাগল তুমি রাখতে পার
9. সুতরাং ঈশ্বরই পশুগুলিকে তোমার পিতার কাছ থেকে নিয়ে আমায় দিয়েছেন
10. “একটি স্বপ্নে আমি দেখলাম, দলের সঙ্গে সঙ্গম করছে য়ে পুরুষ ছাগলরা, তাদেরই গায়ে ডোরাকাটা এবং ছোপমারা
11. ঈশ্বরের দূত সেই স্বপ্নে আমার সঙ্গে কথা বললেন, “যাকোব!”“আমি উত্তর দিলাম, ‘আজ্ঞে!’
12. “দূত আমাকে উত্তর দিলেন, “দেখ, কেবল ডোরাকাটা ও বিন্দু চিহ্নিত ছাগলরাই সঙ্গম করছে
13. আমি সেই ঈশ্বর যিনি বৈথেলে তোমার কাছে এসেছিলেন
14. রাহেল ও লেয়া যাকোবকে উত্তরে বললেন, “আমাদের পিতা তার মৃত্যুর সময় আমাদের জন্য কিছু রেখে যাবেন না
15. তিনি আমাদের সঙ্গে এমন ব্যবহার করেন য়েন আমরা বিদেশী
16. ঈশ্বর এই সমস্ত ধন পিতার কাছ থেকে নিয়েছেন যার মালিক এখন আমরা এবং আমাদের সন্তানেরা
17. সেইজন্য যাকোব যাত্রার জন্য প্রস্তুত হল
18. তারপর তারা কনান দেশে ফিরে গেল যেখানে যাকোবের পিতা বাস করতেন
19. সেই সময় লাবন মেষদের লোম ছাঁটতে গেলেন
20. যাকোব অরামীয় লাবনের সঙ্গে চালাকি করল কারণ তার চলে যাবার বিষযে সে তাঁকে জানাল না
21. যাকোব তার পরিবার ও সমস্ত সম্পত্তি নিয়ে দ্রুত বেরিয়ে পড়ল
লাবন জ্যাকবকে তাড়া করে
22. তিন দিন পরে লাবন জানতে পারলেন য়ে যাকোব পালিয়ে গেছে
23. তাই লাবন তাঁর লোকজন জড়ো করে যাকোবের পেছনে ধাওয়া করে চললেন
24. সেই রাতে ঈশ্বর স্বপ্নে লাবনের কাছে গেলেন
25. পরের দিন সকাল বেলা লাবন যাকোবকে দেখতে পেলেন
26. লাবন যাকোবকে বললেন, “তুমি কেন আমার সঙ্গে চালাকি করলে? কেন তুমি আমার কন্যাদের যুদ্ধ বন্দীদের মত ধরে নিয়ে গেলে?
27. তুমি আমাকে না জানিয়ে কেন পালালে? যদি আমায় বলতে তবে আমি একটা ভোজের আয়োজন করতাম
28. তুমি এমনকি আমার নাতি নাতনিদের চুমু খেতে ও কন্যাদের বিদায় জানাবারও সুয়োগ দিলে না
29. তোমাকে আঘাত করার ক্ষমতা আমার রয়েছে
30. আমি জানি তুমি তোমার বাড়ী ফিরে য়েতে চাও আর সেইজন্যই তুমি চলে এসেছ
31. যাকোব উত্তরে বলল, “আমি ভয় পেয়েছিলাম তাই আপনাকে না বলে চলে এসেছি! আমি ভেবেছিলাম আপনি হয়তো আমার কাছ থেকে আপনার কন্যাদের ছিনিয়ে নেবেন
32. কিন্তু আমি আপনার ঠাকুরগুলো চুরি করি নি
33. তাই লাবন গিয়ে যাকোবের তাঁবু এবং তারপর লেয়ার তাঁবু খুঁজে দেখলেন
34. রাহেল ঠাকুরগুলোকে উটের গদির তলায় লুকিয়ে তার ওপরে বসে ছিলেন
35. রাহেল তার পিতাকে বলল, “পিতা আমার উপর রাগ করবেন না
36. তখন যাকোব খুব রেগে গিয়ে বলল, “আমি কি দোষ করেছি? কোন আইন ভেঙ্গেছি? কি অধিকারে আপনি আমাকে তাড়া করে থামাতে এসেছেন?
37. আমার যা কিছু রয়েছে তার সবকিছুই আপনি খুঁজে দেখেছেন
38. আমি 20বছর আপনার জন্য কাজ করেছি
39. কোন সময় বন্য পশুর দ্বারা কোন মেষ মারা গেলে আমি সবসময় নিজে আপনার কাছে এসে বলি নি য়ে আমার দোষে এটা হয় নি
40. দিনের বেলা সূর্য় য়েন আমার শক্তি নিঙড়ে নিত এবং রাতে শীতে ঘুম আমার চোখ থেকে উধাও হয়ে য়েত
41. আমি 20 বছর ধরে আপনার কাছে দাসের মত কাজ করেছি
42. কিন্তু আমার পূর্বপুরুষের ঈশ্বর, অব্রাহামের ঈশ্বর এবং ইসহাকের ভয়?আমার সঙ্গে ছিলেন
জ্যাকবের সাথে লাবনের চুক্তি
43. লাবন যাকোবকে বললেন, “এই মহিলারা আমারই কন্যা
44. সেইজন্যে এস তোমার সঙ্গে এক চুক্তি করি
45. চুক্তির প্রমাণ হিসাবে যাকোব একটা বড় পাথর খুঁজে এনে সেটা স্থাপন করল
46. সে তার নিজের লোকদেরও পাথর এনে রাশি করে রাখতে বলল
47. লাবন সেই স্থানের নাম রাখলেন য়িগর্ সাহদুথা
48. তখন লাবন বললেন, “পাথরের এই রাশি আমাদের চুক্তি স্মরণ করতে সাহায্য করবে
49. তারপর লাবন বললেন, “আমরা পরস্পরের থেকে দূরে চলে গেলে প্রভু য়েন আমাদের পাহারা দেন
50. তারপর লাবন বললেন, “মনে রেখো তুমি যদি আমার কন্যাদের আঘাত কর তবে ঈশ্বর তোমাকে শাস্তি দেবেন
51. আমাদের মধ্যে স্থাপিত স্তম্ভ ও এই রাশি করা পাথরগুলো স্মরণ করিযে দেবে আমাদের চুক্তির কথা
52. আমি কখনই এই পাথরগুলো পার হয়ে তোমার সাথে লড়াই করতে যাবো না এবং তুমিও অবশ্যই পার হয়ে আমার সঙ্গে লড়াই করতে আসবে না
53. আমরা যদি এই চুক্তি লঙঘন করি তবে অব্রাহামের ঈশ্বর, নাহোরের ঈশ্বর এবং তাদের পূর্বপুরুষের ঈশ্বর আমাদের বিচারে দোষী করুন
54. তারপর যাকোব সেই পর্বতে একটা পশু বলিদান রূপে উত্সর্গ করল
55. পরের দিন ভোরে লাবন তাঁর নাতি নাতনিদের ও কন্যাদের চুমু খেয়ে বিদায জানালেন